বাংলায় বিজেপি সরকার আসার পর একের পরের নতুন প্রকল্প সূচনা যেমন হয়েছে তেমন আগামীতে আরো অনেক কিছু প্রকল্পের সূচনা হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আপনার যদি প্রথম দুই সন্তান কন্যা হয়ে থাকে তাহলে তাদের জন্য রয়েছে এক বিরাট সুযোগ। ৫০ হাজার টাকা পাওয়ার এক দুর্দান্ত প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্প সম্পর্কে জানতে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন।
আজও কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে পরিবারের মধ্যে একটা চিন্তার বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। একজন মেয়ের পড়াশোনা থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং তাকে দিয়ে দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের মধ্যে যে চিন্তা দেখা দেয় তার সম্পূর্ণটাই চিন্তা মুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এক অভিনব প্রকল্প চালু করা হয়েছে। আপনার প্রথম দুই কন্যা সন্তানের জন্য আপনি ৫০০০০ টাকার একটি ফান্ড করতে পারবেন।
কি সাহায্য পাবেন?
আপনার কন্যা সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণী অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করার সময়কালীন সময়ে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আপনি অর্থনৈতিক সাহায্য পাবেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
উদ্দেশ্য: এই প্রকল্পটি সূচনা করেছেন রাজস্থান সরকার। মূলত একজন কন্যা সন্তানের পড়াশোনা, অর্থাৎ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্য বিধির উপর নজর দেওয়া এবং সর্বোপরি ভবিষ্যৎ জীবনের লক্ষ্যকে ঠিক রাখার জন্য এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে।
আগের যুগের মতন বর্তমান যুগেও কিছু প্রত্যন্ত গ্রাম রয়েছে যেখানে খুব অল্প বয়সে মেয়েদেরকে পড়াশোনার থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে বাল্যবিবাহ দেওয়া হয়। তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার পরিবর্তে অভিভাবকরা তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। এই বাল্যবিবাহ রোধ এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্যই রাজস্থান সরকার প্রত্যেক পরিবারের একজন অভিভাবকের প্রথম দুই কর্ম সন্তানের জন্য ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থনীতি সহযোগিতা করার প্রকল্প চালু করেছেন।
আপনি যদি একজন রাজস্থানবাসী হয়ে থাকেন তাহলে এই প্রকল্পের কিভাবে সুবিধা নেবেন তা বিস্তারিত জেনে নিন।
এই ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা কয়েকটি কিস্তিতে দেওয়া হয়ে থাকে। মোট 6 টি কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। প্রথম যখন কন্যা সন্তান জন্ম নেয় সেই সময়ে দেওয়া হয় ২৫০০ টাকা। এরপর যখন সেই কন্যা সন্তান প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হয় তখন ৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করার সময় দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা এবং দশম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সময় দেওয়া হয় ১১ হাজার টাকা। সবশেষে দ্বাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার সময় দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা। সর্বমোট জন্ম থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ সাহায্য করা হয়।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু শর্ত:
১) আবেদনকারীকে অবশ্যই রাজস্থানের স্থায়ী বাসিন্দা থাকতে হবে।
২) প্রথম দুই কন্যা সন্তানের জন্য এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে।
৩) কন্যা সন্তানকে অবশ্যই পয়লা জুন ২০১৬ তারিখের পর জন্মগ্রহণ করতে হবে।
৪) সরকারি বা সরকার অনুমোদিত হাসপাতালেই জন্মগ্রহণ করলে তবে এই প্রকল্প আবেদন করা যাবে কোন প্রাইভেট নার্সিংহোম বা প্রাইভেট হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করলে আবেদন করা যাবে না।
আবেদন প্রক্রিয়া: আপনি যদি অফলাইন মাধ্যমে আবেদন করতে ইচ্ছুক থাকেন তাহলে আপনি নিকটবর্তী যে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে বা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে এছাড়া পোস্ট অফিসে গিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে। এরপর আবেদনপত্রের সঙ্গে উপযুক্ত ডকুমেন্ট আটাচ করে জমা দিতে হবে।
কোন কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে?
১) বাবা এবং মায়ের আধার কার্ড
২) শিশুর আধার কার্ড
৩) ব্যাংক একাউন্ট ডিটেলস
৪) বার্থ সার্টিফিকেট প্রমাণপত্র
৫) স্কুলে ভর্তির শংসাপত্র
৬) পাসপোর্ট সাইজ ফটো
রাজস্থান সরকারের এই কন্যা সন্তানের যে অভিনব প্রকল্প অনেকটাই সাড়া ফেলেছে ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আজও একই ভাবে জনপ্রিয়তা রেখেছে। সমাজে পুরুষের পাশাপাশি কন্যা সন্তানের অবস্থান ধরে রাখতে, কন্যা সন্তানদের পড়াশোনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার লক্ষ্য গড়ার জন্য এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করার জন্য এবং সর্বোপরি বাল্যবিবাহ রোধ করার জন্য রাজস্থান সরকারের এই কন্যা সন্তানের জন্য ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা একটি অভিনব প্রকল্প। আপনি যদি একজন রাজস্থান বাঁশি হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার যদি কন্যা সন্তান থেকে থাকে তাহলে জন্মের পরপরই এই প্রকল্পে আবেদন করে নিন, সেইসাথে আপনার কন্যা সন্তানের জন্ম থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকর আর্থিক সহায়তা নেওয়ার সুযোগ করে নিন।
আরোও পড়ুন: উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলে ৬,৭৭৭
