২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতন জয়লাভ করেছে বিজেপি। একাধিক নতুন নিয়ম কানুন চালু করার পাশাপাশি এই প্রথম ২০২৭ এর জনগণনা ফর্ম এইবার অফলাইনের পাশাপাশি আপনি বাড়িতে বসেই পূরণ করতে পারবেন অনলাইন সেল্ফ এনুমারেশন ফর্ম বা স্ব জনগণনা ফর্ম।
অর্থাৎ এইবার প্রথমবার যেখানে আপনাকে সরকারি আধিকারিকদের আসার জন্য আর অপেক্ষা করে বসে থাকতে হবে না। খুব সহজেই অনলাইন মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সাবমিট করে আপনি ঘরে বসেই জনগণনা আবেদন ফর্ম ফিলাপ করে নিতে পারবেন। এই বিশেষ জনগণনা অনলাইন প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার জন্য খোলা হয়েছে জনগণনা নতুন অনলাইন পোর্টাল। এই পোর্টালের মাধ্যমেই আপনাকে জনগণনার আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। আপনার আবেদন পূরণ করার পর সন্তুষ্ট সরকারি আধিকারিকরা সেটি যাচাই করে নেবেন।
অনলাইন জনগণনার সুবিধা:
অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন প্রক্রিয়া চালু করার প্রধান সুবিধা হল আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে না সরকারি আধিকারিকদের জন্য। আপনি কোন জায়গায় না গিয়ে বাড়িতে থাকতে হবে এমন কোন ব্যাপার আর থাকবে না। নিজের সময় সুযোগ মতন খুব সহজে বাড়িতে এন্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন। নিজের হাতে তথ্য পূরণ করার ফলে আপনি বারবার মিলিয়ে বা দেখে নিয়ে সাবমিট করতে পারবেন এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। এছাড়া সরকারি জনগণনার প্রক্রিয়ায় আপনি সরাসরি যুক্ত থাকতে পারছেন।
জনগণনা ২০২৭ বলতে বোঝায় ভারতের প্রত্যেকটি নাগরিক এবং প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যদের সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহের একটি সরকারি কার্যকলাপ। ভারতের শেষ পূর্ণাঙ্গ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। এই দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবার ২০২৭ সালে পূর্ণাঙ্গ জনগণনা হতে চলেছে। অফলাইনের পাশাপাশি এই প্রথম ডিজিটাল মাধ্যমে জনগণনা হতে চলেছে যেটি জনগণনার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য এইবারের জনগণনা। জনগণনা করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সরকারি বিভিন্ন নীতি চালু করতে এই জনগণনার গুরুত্ব অপরিসীম। এজন্য দেশের সকল ব্যক্তির এই জনগণনার জন্য তথ্য দেওয়া একটি নৈতিক কর্তব্য।
অনলাইনের সেলফ এনুমারেশন ডেট ডিক্লেয়ার করা হয়েছে পহেলা আগস্ট থেকে ১৪ই আগস্ট।
অফলাইনের মাধ্যমে সরকার আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের তারিখ রয়েছে : ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
অনলাইনে জনগণনার জন্য কোন পোর্টাল ব্যবহার করবেন?
সরকারি জনগণনার আবেদন পত্র পূরণ করার জন্য সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করবেন। কোন অন্য পোর্টালে নিজের তথ্য সাবমিট করবেন না।
সরকারি জনগণনার অনলাইন পোর্টালটি হলো:
অনলাইন আবেদনপত্র পূরণ করার সময় কোন কোন ডকুমেন্ট নিজের কাছে রাখবেন?
যৌথ জনগণনা মানে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের একটি মিলিত তথ্য এবং বাড়ির গঠন সম্পর্কিত তথ্য, তাই বাড়ির প্রত্যেকটি সদস্যদের মৌলিক তথ্য হাতের কাছে রাখবেন। এর পাশাপাশি বাড়ির গঠন, বিদ্যুতের অবস্থা, পানির জল ও শৌচাগর এর অবস্থা, বাড়ির কাঠামো, অন্যান্য তথ্য, রান্নার ব্যবস্থা বাড়িতে থাকা মৌলিক সুবিধা গুলি সম্পর্কে অবগত থাকবেন, তার ফলে আবেদনপত্র পূরণ করতে আপনার সুবিধা হবে।
অনলাইন জনগণনা প্রক্রিয়া:
১) আপনাকে প্রথমে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা ল্যাপটপের মাধ্যমে সরকারি জনগণনার যে সেনসাস পোর্টাল রয়েছে সেখানে প্রবেশ করতে হবে।
২) এরপর self-enumeration এই অপশনটি ক্লিক করতে হবে।
৩) এরপর আপনি যে ভাষায় আবেদনপত্র পূরণ করতে ইচ্ছুক সেটি নির্বাচন করুন।
৪) এরপর জনগণনার আবেদন পত্রে যে সমস্ত তথ্য দেওয়া রয়েছে সেগুলি একে একে পরে সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। বাড়ির সদস্যদের সকলের তথ্য, বাড়ির কাঠামো ও অন্যান্য অবস্থাগত তথ্য ভালো করে বুঝে ইনপুট করুন।
৫) সমস্ত একবার ভালো করে দেখি নিয়ে সাবমিট অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আপনি সেলফ এনুমারেশন আইডি নাম্বার পাবেন যেটি রেফারেন্সের জন্য প্রয়োজন পড়বে তাই সংগ্রহ করে রাখুন।
আপনি যদি অনলাইনে জনগণনার ফর্ম পূরণ করেন তারপরেও সরকারের আধিকারিকরা আপনার বাড়িতে আসতে পারেন কারণ তথ্য যাচাই করার জন্য অনেক সময় সরকারের আধিকারিকরা আপনার বাড়িতে আসতে পারেন।
এছাড়া সেনসাস ২০২৭ এর দ্বিতীয় পর্যায়ে জাতিগত তথ্য সংগ্রহ করার একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
অনলাইন জনগণনার আবেদনপত্র পূরণ করার সময় কোন কোন সতর্কতা অবলম্বন করবেন?
১) তথ্যগুলি ভালো করে পড়ে নিয়ে সঠিক তথ্য ইনপুট করুন।
২) সাবমিট করার আগে ভালো করে একবার মিলিয়ে নিন।
৩) সেলফ এনুমারেশন আইডি নাম্বার সংগ্রহ করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিন।
৪) শুধুমাত্র সরকারের দেওয়া সেন্সাস ২০২৭ এর অনলাইন পোর্টালে তথ্য আপলোড করুন। কোনো অজানা বা ভুয়ো পোর্টালে তথ্য আপলোড করবেন না।
৫) কোন অজানা ব্যক্তিকে সেনসাস জনগণনার ওটিপি বা কোন তথ্য শেয়ার করবেন না।
জনগণনার গুরুত্ব: দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে জনগণনা গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের জনসংখ্যার পরিমাণ, পরিবারের পরিকাঠামো, বাড়ির গঠন ও অন্যান্য অবস্থার ভিত্তিতে সরকার যৌন সরকারের নীতি প্রয়োগ করেন বা পুনর্গঠন করেন সুতরাং এই জনগণনা একটি অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। ২০১১ সালের পর ২০২৭ সালের পূর্ণাঙ্গ জনগণনার পরে দেশের মোট জনসংখ্যা আর নতুন করে জানা যাবে।
উপরের এই পদ্ধতি ভালো করে পড়ে নিয়ে অনলাইন মাধ্যমে জনগণনার আবেদন পত্র পূরণ করে ফেলুন আর আপনি যদি অফলাইনে করতে ইচ্ছুক থাকেন তাহলে অপেক্ষা করুন আপনার বাড়িতে নির্দিষ্ট সময়ে এসে সরকারে আধিকারিকরা জনগণনার ফর্ম পূরণে সাহায্য করবে।
Read more: অফলাইনের পরিবর্তে এবার অনলাইনে ফিরতে হবে সরকারি কর্মচারীদের! নির্দেশ নবান্নের।
