২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। প্রথমবারের মতন বাংলায় সরকার গঠন করে বিজেপি। যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি মূলক ইস্তেহার দেওয়া হয়েছিল প্রচারকালীন সময়ে, সেগুলি একে একে পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে নতুন সরকারের তরফে। তৃণমূল জামানায় যে সমস্ত প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল, সেগুলি নতুন নাম পরিবর্তিত হয়ে দ্বিগুণ অনুদান হিসাবে আসতে চলেছে পয়লা জুন থেকে। প্রাক্তন সরকারের সূচনা করার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নাম পরিবর্তিত হয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার হিসেবে এসেছে। পয়লা জুন থেকে মাসিক ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তাদের। এছাড়া যারা আবেদন করতে ইচ্ছুক নতুন করে তাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ভাতা হিসেবে বার্ধক্য ভাতা বিধবা ভাতা এগুলি চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। প্রাক্তন সরকার বিধানসভা নির্বাচনের কিছু দিন আগেই রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য শুরু করেছিল যুবসাথী প্রকল্প। এই প্রকল্প নাম পরিবর্তিত হয়ে যুবশক্তি ভরসা কার্ড হিসেবে পরিস্থিতি পাবে বিজেপি সরকার আমলে। যুবশক্তি ভরসা কার্ডের অনুদান দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করে দেওয়া শুরু হতে চলেছে পয়লা জুন থেকে। প্রাক্তন সরকারের সময় যুব শক্তির অনুদানের পরিমাণ ছিল ১৫০০ টাকা। এইবার সেই অনুদান দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য এটি একটি অন্যতম প্রয়াস হিসেবে বলা হচ্ছে।
যুবশক্তি ভরসা কার্ডের মাধ্যমে রাজ্যের বেকার যুবকদের ৩০০০ টাকা করে মাসিক অনুদান দেওয়ার প্রধান কারণ হলো যাতে নির্ধারিত সংস্থায় চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত যুবকদের ভরসা হয়ে থাকবে এই অনুদান। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের হাত খরচা থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ, বইপত্রকে না ও অন্যান্য খরচ চালানোর জন্য এই অনুদান অনেকটাই ভরসা দেবে বেকার যুবকদের।
নতুন করে আবেদন করতে হবে?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতনই যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে না, যারা প্রাক্তন সরকারের আমলে যুব সাথী অনুদান পেতেন। সেই সমস্ত উপভোক্তাদের নাম সরাসরি যুব সাথী থেকে ট্রান্সফার হয়ে যুবশক্তি ভরসা কার্ডে চলে যাবে। তবে যে সমস্ত বেকার যুবকরা যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন না, তারা যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য নতুন করে আবেদন করতে পারবে।
তবে এখনো পর্যন্ত নতুন করে আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে সরকারের তরফ থেকে কোন ঘোষণা আসেনি। নতুন করে যুবশক্তি ভরসা কার্ডের জন্য আবেদন করতে হলে কোন পোর্টাল চালু করা হবে কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা আসার পরে নতুন আবেদন করা যাবে। তবে যে সমস্ত গ্রাহক যুব সাথী পেতেন তারা পয়লা জুন থেকে ৩ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়ে যাবেন নিজস্ব ব্যাংক একাউন্টে। সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হবে অর্থাৎ ডাইরেক্ট বেনেফিশিয়ারি ট্রান্সফার হবে তার জন্য ডিবিটি লিংক করে রাখা খুব জরুরী না হলে আপনার টাকা ব্যাংক একাউন্টে ঢুকবে না। তাই চেষ্টা করুন পহেলা জুনের আগে DBT লিংক করিয়ে রাখার। তাহলেই আপনার ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে যাবে ৩০০০ টাকা।