বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে ১লা জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে, প্রাক্তন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে। তবে এর জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে DBT লিংক থাকা অত্যাবশক। এই ঘোষণার পরপরই সবাই ছুটছে ব্যাংকে বা সাইবার ক্যাফেতে। বর্তমানে প্রত্যেকদিন ব্যাংকগুলোতে লম্বা লাইন পড়ছে ডিবিটি লিংক করার জন্য। যদিও আপনি নিজেই খুব সহজে DBT লিংক করতে পারবেন, তবে বেশিরভাগ ব্যক্তি ব্যাংকে গিয়ে করতে ভরসা করছেন। কিন্তু অনেকের কাছ থেকেই জানা যাচ্ছে, ব্যাংকে গিয়ে DBT লিংক করার পর নিজে চেক করতে গিয়ে ইন এক্টিভ দেখাচ্ছে।
ব্যাংকে গিয়ে ডিবিটি লিংক করে আসার পর কিভাবে বুঝবেন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে ডিবিটি লিংক সম্পন্ন হয়েছে কিনা। ব্যাংক থেকে লিংক করানোর পর নিজের চোখে দেখে নেওয়া উচিত সত্যি লিংক করিয়ে দেওয়া হয়েছে কিনা। নাহলে ১ লা জুন আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা ঢুকবে না।
DBT লিংক করা কেন বাধ্যতামূলক করা হলো?
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতন সরকার গঠন করে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, প্রাক্তন সরকারের সূচনা করা সমস্ত জনদরদী প্রকল্পগুলোকে বন্ধ না করে চালিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধুমাত্র প্রাক্তন প্রকল্পগুলির অনুদান বৃদ্ধি করা হবে এবং কিছু প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হবে। সেই মতন প্রাক্তন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের নাম পরিবর্তিত হয়েই অন্নপূর্ণা ভান্ডার নামকরা হয়েছে। যার ফলে লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম ট্রান্সফার হয়ে যাবে। তবে বিজেপি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সমস্ত রকম প্রকল্পের অনুদান দেওয়া হবে ডাইরেক্ট বেনিফিশিয়ারি ট্রান্সফারের মাধ্যমে। প্রাক্তন সরকারের সময় ডাইরেক্ট ব্যাংক ট্রান্সফার করা হতো এর ফলে অনেক ভুয়ো উপভোক্তা বেড়ে গিয়েছিল। ডাইরেক্ট বেনিফিশিয়ারি ট্রান্সফার করলে কোন মধ্যস্থতাকারী না থাকার জন্য সরাসরি যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টের টাকা ট্রান্সফার হয় আর এই ব্যবস্থাকে জোর দিচ্ছে বিজেপি সরকার। মূলত স্বচ্ছতা এবং ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম বাতিল করার জন্যই এই পদ্ধতি আনা হয়েছে।
Read more: যুবশক্তি(Yuva Shakti) কার্ডের অনুদান ১লা জুন থেকেই, আবেদনের নতুন নিয়ম জানুন!
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ কবে থেকে শুরু?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলাপ করতে লাগবে যারা প্রাক্তন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তা ছিলেন না অর্থাৎ লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান পেতেন না। অর্থাৎ নতুন করে যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে নাম নথিভুক্ত করতে ইচ্ছুক তাদের জন্যই অন্নপূর্ণা ভান্ডারের নতুন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এই পোর্টালের মাধ্যমেই অনলাইন এপ্লিকেশন নেওয়া হবে।। তবে সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, অফলাইন এবং অনলাইন দুই মাধ্যমেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অ্যাপ্লিকেশন করা যাবে। আগামীকাল বুধবার থেকে নবান্ন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম দেওয়া শুরু হবে। এছাড়া বিডিওদের মাধ্যমে প্রত্যেক বাড়িতে গিয়েও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য অ্যাপ্লিকেশন করানো হবে। অন্যদিকে লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তারা অর্থাৎ যারা আগের থেকেই লক্ষীর ভান্ডার অনুদান পেতেন তারা পহেলা জুন থেকে ৩ হাজার টাকা পেতে শুরু করবেন।
আপনি যদি এখনো DBT লিংক না করিয়ে থাকেন তাহলে কি করবেন?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাসিক ৩ হাজার টাকা পেতে হলে ডিবিটি লিংক বাধ্যতামূলক তার জন্য আপনাকে অবশ্যই এই কাজটি করে রাখতে হবে পয়লা জুনের আগে। NPCI পোর্টালের মাধ্যমে আপনি বাড়িতে বসেই DBT লিংক করিয়ে নিতে পারেন এছাড়া আপনার যে ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে সেই ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ডিবিটি লিংক করিয়ে আসতে পারেন। তবে আপনি যদি ব্যাংকে গিয়ে ডিবিটি লিংক করে আসেন তালে অবশ্যই বাড়িতে এসে চেক করবেন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সত্যি সত্যি ডিবিটি লিংক করা হয়েছে কিনা।
কিভাবে ফোনের মাধ্যমে চেক করবেন?
খুব সহজেই আপনি চেক করতে পারবেন।
তার জন্য প্রথমে আপনাকে UIDAI যে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে সেখানে প্রবেশ করতে হবে। তারপর লগইন অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আধার নাম্বার ইনপুট করতে হবে। তারপর ক্যাপচা কোড সঠিক লিখতে হবে। এরপর সেন্ড ওটিপি অপশনে ক্লিক করলে, আপনার আধার রেজিস্টার্ড মোবাইল নাম্বারে একটি OTP যাবে। সেই OTP নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে এন্টার করুন। এরপর ড্যাশবোর্ডে থাকা অনেকগুলো অপশন থেকে আধার সিডিং স্ট্যাটাস বলে একটি অপশন আসবে সেখানে ক্লিক করুন। এখানেই আপনি বুঝে নিতে পারবেন আপনার ব্যাংক একাউন্ট এর সঙ্গে DBT লিংক করা রয়েছে কিনা। যদি লিংক হয়ে থাকে তাহলে bank seeding statas Active দেখাবে। এছাড়া কোন ব্যাংকের সাথে লিংক করা হয়েছে, সেই ব্যাংকের নাম দেখতে পারবেন। আধার ম্যাপিং হয়েছে এটাই লেখা থাকবে। তাহলে খুব সহজেই আপনি নিজেই চেক করে নিন। ব্যাংকে গিয়ে DBT লিংক করিয়ে এসে DBT লিংক চেক করে নিশ্চিন্ত থাকুন।