অন্নপূর্ণা ভান্ডারের(annapurnabhandar) ভেরিফিকেশন শুরু, বাদ পড়ল একাধিক লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তার নাম।

বিধানসভা নির্বাচনের পরে প্রথমবারের মতন বাংলায় নজির গড়েছে বিজেপি। ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছিল বাংলা। বিজেপির নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রচারের সময় যে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিলেন বাংলার জনগণকে সেগুলো পূরণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে বাংলার ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সূচনা করা হচ্ছে। প্রাক্তন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তারাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় যুক্ত হয়ে যাবেন। এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ নতুন করে কোন আবেদন করতে হবে না লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তাদের। আর যারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন না তাদেরকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে আর তার নতুন পোর্টাল ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে তবে নতুন আবেদন পদ্ধতির সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত অফিসিয়ালি ঘোষণা আসেনি সরকারের তরফ থেকে। তবে পয়লা জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়া শুরু হবে গ্রাহকদের ব্যাংক একাউন্টে। তবে টাকা পাওয়ার জন্য গ্রাউন্ডের থাকতে হবে ডিবিটি লিংক। অর্থাৎ প্রাক্তন সরকারের সময় যেমন সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার করা হতো, বিজেপি সরকারের সময় তার করা হবে না। ডাইরেক্ট বেনেফিশিয়ারি ট্রান্সফার অর্থাৎ আধার কার্ডের উপর ভিত্তি করে টাকা দেওয়া হবে গ্রাহকের ব্যাংক একাউন্টে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা যাচাই এবং সঠিক গ্রাহকদের নির্বাচিত করতেই এই পন্থা অবলম্বন করেছে বিজেপি সরকার। আর এইখানে সবথেকে বড় দিক হলো, DBT লিংক যাদের করা থাকবে না তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা ঢুকবে না। এছাড়া যে সমস্ত গ্রাহক মৃত হয়ে গিয়েছেন, সরকারি চাকরি করতেন, ইনকাম ট্যাক্স দিয়ে থাকেন সেই সমস্ত গ্রাহকদের নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সেই সমস্ত গ্রাহকদের নাম বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য সঠিক উপভোক্তাদের তালিকা ভেরিফিকেশন শুরু হয়ে গিয়েছে।

জানা যাচ্ছে, ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম যাচাই করার প্রক্রিয়া, ইতিমধ্যে ব্লক ও মহাকুমা স্তরে শুরু হয়ে গিয়েছে। যেহেতু হাতে আর বেশি সময় নেই তাই দ্রুত গতিতে কাজে এগিয়ে চলছে। লক্ষীর ভান্ডারের ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিতকরণ করার জন্য হাতিয়ার করা হয়েছে এসআইআর ও ভোটার তালিকা মিলিয়ে নাম বাতিল করা হচ্ছে। ২০২৬ এর বিধানসভার নির্বাচনের আগে এসআইআর হয়েছিল এবং তখনই অনেক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার জন্য নতুন ভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা তৈরি হওয়ার আগে ব্লক অফিস এবং ভিডিও ও সাব ডিভিশনাল অফিসারদের ভোটার তালিকা ও প্রশাসনিক তথ্য মিলিয়ে তারপরই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় নাম যুক্ত করা হবে লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তাদের। আর এর ফলে কয়েক লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তাদের নাম বাদ যেতে চলেছে।

কোন কোন কারনে গ্রাহকদের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে?

বিজেপি সরকার জানিয়ে দিয়েছেন মোট তিনটি কারণের উপর ভিত্তি করে নাম বাদ দেওয়া হবে।
১) যে সমস্ত লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তারা বর্তমানে বেঁচে নিয়ে অর্থাৎ মৃত, তাদের নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
২) যারা আগে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা ছিল কিন্তু বিবাহ পরবর্তী সময়ে অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে তাদের নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে।
৩) ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় SIR স্লিপ দেওয়ার সময় যাদের পাওয়া যায়নি তাদের নাম অন্নপূর্ণা ভান্ডারে তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে।

Read more: জুন মাস থেকে টাকা পেতে DBT লিংক করুন বাড়িতেই, জেনে নিন সহজ উপায়।

কোন কোন শর্ত দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের জন্য?

লক্ষীর ভান্ডার পেলেই তিনি যে অন্নপূর্ণা ভান্ডার পাবেন তেমনটা নয়, কারণ বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে কিছু শর্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে তবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় নাম উঠবে বা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন।
১) যদি কোন মহিলা সরকারি চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাহলে তিনি লক্ষীর ভান্ডার পেয়ে থাকলেও অন্নপূর্ণার ভান্ডার পাবেন না বা নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না।
২) যে সমস্ত মহিলারা আয়কর প্রদান করে থাকেন তারাও এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
৩) তবে যে সমস্ত মহিলাদের এসআইয়েরের সময় নাম সাময়িকভাবে বাতিল হয়েছে অথচ তারা ইতিমধ্যে এস আই আর ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে বা নাগরিকত্ব আইনের আওতায় আবেদন করেছেন তাদেরকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় রাখা হবে তবে আবেদন গ্রান্টেড না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনুদান দেওয়া কিছু সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে।

বিজেিপি সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়ার আগে বিভিন্ন শর্ত এবং DBT লিংক বাধ্যতামূলক করেছেন, তার একটাই কারণ যাতে যোগ্য উপভোক্তারা এই সুযোগ পেয়ে থাকেন এবং ভুয়ো গ্রাহক যাতে বাতিল হয় অর্থাৎ প্রকল্প যাতে স্বচ্ছতার সাথে বজায় থাকে তার জন্য এই প্রচেষ্টা এবং ইতিমধ্যে যোগ্য গ্রাহকদের নামের তালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য জেলা শাসকের কাজে পাঠানো কাজ শুরু হয়েছে। যদি উপরে শর্ত গুলো আপনার সাথে না যায় তাহলে আপনিও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা থেকে বাদ পড়বেন অর্থাৎ জুন মাস থেকে কোন টাকা আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে ঢুকবে না।

Leave a Comment

Join Group Join Group