annapurnabhandar: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডাদের টাকা পেতে হলে পূরণ করতে হবে বারো পাতার ফর্ম! কিভাবে করবেন?

২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপির তরফ থেকে বাংলার জনগণকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যদি বাংলায় বিজেপি সরকার আসে তাহলে লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রকল্পের অনুদান দ্বিগুণ করে দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রাক্তন সরকারের সময়ে সাড়া জাগানো প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডারের নাম পরিবর্তিত হয়ে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার করা হবে এবং যার অনুদান পরিমান মাসিক ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বাংলার মহিলাদের। ২০২৬-এর নির্বাচনে অবশেষে জয় লাভ করল বিজেপি। প্রথমবারের মতন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের পরিবর্তনের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমদিকে জানিয়েছিলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তারাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ট্রান্সফার হয়ে যাবেন এবং পয়লা জুন থেকে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিশিয়াল ট্রান্সফারের মাধ্যমে ঢুকে যাবে ৩ হাজার টাকা। আর এর জন্যই একাধিক মহিলা ব্যাংক থেকে শুরু করে পোস্ট অফিসে সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন শুধুমাত্র ডিবটি লিংক করার জন্য। এইদিকে শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার থেকে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ট্রান্সফার যতদিন না হয় ততদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকদের ১৫০০ টাকা করে অনুদান চালিয়ে যাওয়া হবে। অন্যদিকে ১লা জুন থেকে আগামী তিন মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম পূরণ করার জন্য। এই তিন মাসের মধ্যে যারা ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন তাদের এনরোলমেন্টের নাম উঠে যাবে এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় নাম ওঠার পরেই তাদের ব্যাঙ্ক একাউন্টে মাসিক ১৫০০ টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার টাকা করে ঢুকবে। যত আগে ফর্ম পূরণ করা হবে, তত আগে তার ব্যাংক একাউন্টে ৩০০০ দেওয়া হবে।

কত দিনের মধ্যে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে

১লা জুন থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিতে হবে।

কোথায় ফর্ম পাওয়া যাবে?

বিডিও অফিস থেকে এই ফর্ম দেওয়া হবে এছাড়া নবান্ন থেকে এই ফর্ম পাওয়া যাবে। এছাড়া ব্লকের বিএলও দের সাহায্য এই ফর্ম বিলি করা হবে প্রত্যেক বাড়িতে। এছাড়া অনলাইনে ফর্ম পাওয়া যাবে অর্থাৎ আপনি অফলাইন বা অনলাইন যেকোন একটি পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রত্যেক মহিলাকে ফর্ম পূরণ করতে হবে অর্থাৎ যারা নতুন করে আবেদন করবে এবং যারা আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতো, উভয়কেই আবেদন করতে হবে।

অন্নপূর্ণা ভান্ডার এর ফর্ম কিরকম হতে চলেছে?

বুধবার শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম প্রকাশ করেছেন এবং দেখা যাচ্ছে ১২ পাতার একটি ফর্ম যেখানে পরিবারের সকল ব্যক্তিদের আর্থিক ও বিভিন্ন রকম তথ্য দিতে হবে।

কারা কারা অন্নপূর্ণা ভান্ডাআর পাবেন না?

যারা আয়কর প্রদান করেন এবং যাদের ২০২৬ ভোটার তালিকায় নাম নেই অর্থাৎ ভারতীয় নয়, তাদের এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকায় নেওয়া হবে না।

আরোও পড়ুন: ব্যাংকে গিয়ে DBT লিংক করিয়েছেন, কিভাবে নিজে থেকে DBT লিংক হয়েছে কিনা চেক করবেন? জানুন বিস্তারিত।

আগের কথার সাথে এখন এর কথার মিল পাওয়া যাচ্ছে না কেন সরকারের থেকে?

যদিও প্রথমে বলা হয়েছিল লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তাদের সরাসরি ট্রান্সফার করা হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে। কিন্তু দেখা গিয়েছে প্রচুর ভুয়ো উপভোক্তা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতো। কিছু বাংলাদেশী মহিলা রয়েছেন, যারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন, এছাড়া কিছু পুরুষের নাম রয়েছে তালিকায় তারাও লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। অনেক সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে আয়কর প্রদানকারী মহিলা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। এই সমস্ত ভুয়ো উপভোক্তা বাছাই করার জন্যই নতুন করে তালিকা করা হবে, যার জন্য সমস্ত মহিলাকে আবার নতুন করে আবেদন করতে হবে।

বিজিপি সরকারের মূল কথা হচ্ছে যারা প্রকৃত দরিদ্র তাদের জন্যই এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার করা হচ্ছে। এছাড়া তালিকা যাতে স্বচ্ছ থাকে তার জন্যই নতুন করে আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়েছে, যাতে ভুয়ো আবেদনকারী না থাকে এবং শুধুমাত্র ভারতীয়রাই পাওয়ার যোগ্য। এছাড়া কোনো পরিবার যদি আয়কর প্রদান করে থাকে তাহলেও তারা এই সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন আর তার জন্যই ফর্মে পরিবারের আর্থিক সংক্রান্ত তথ্য লিখতে বলা হচ্ছে। এছাড়া নবান্নে অগ্নিমিত্রা পাল সহ অন্যান্য মন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করে বুধবার জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী, কোন মহিলাকে তাড়াতাড়ি করে লাইভে দাঁড়িয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে এমনটা নয়, সময় থাকছে আগামী তিন মাস। অর্থাৎ ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে ফর্ম ফিলাপ করা যাবে এবং যতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ফর্ম ফিলাপ সম্পন্ন হচ্ছে এবং এনরোলমেন্টের নাম যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত প্রত্যেক লক্ষ্মীর ভান্ডার উপভোক্তাদের একাউন্টে ১৫০০ টাকা অনুদান দিয়ে দেওয়া হবে।

তবে বারো পাতার এই অন্নপূর্ণা ভান্ডার ফর্ম দেখে অনেকের চক্ষু চরক গাছ হয়ে গিয়েছে। তার কারণ মনে করা হচ্ছে এই ফর্মে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মাধ্যমে বাদ যেতে চলেছে একাধিক লক্ষ্মীর ভান্ডার গ্রাহকের নাম। তবে অনেকের কাছে এটি খুব প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তার কারণ এতে প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তারাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন।

Leave a Comment

Join Group Join Group