প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের নাগরিকদের জন্য একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সূচনা করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদান করেন এই প্রকল্প। নরেন্দ্র মোদি, গর্ভবতী এবং স্তন্যদান কারী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পুষ্টির উন্নতি, সেই সাথে গর্ভবতী মায়েদের আয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে আর্থিক পরিষেবা প্রদান করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা চালু করেছিলেন ২০১৭ সালের পয়লা জানুয়ারি। ২০১৭ থেকে এখনো পর্যন্ত এই প্রকল্প খুবই জনপ্রিয়তার সাথে এগিয়ে চলেছে। আপনি যদি একজন গর্ভবতী মহিলা হয়ে থাকেন তাহলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কিভাবে সুবিধা নেবেন এবং আবেদন কিভাবে করবেন সমস্ত কিছু জেনে নিন আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
একজন গর্ভবতী মহিলা যদি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন বা ব্যবসাজীবী হয়ে থাকেন তাহলে গর্ভাবস্থায় তার আয়ের অনেকটাই ক্ষতি হয়ে থাকে সেই আয়ের ক্ষতিপূরণ করার জন্যই প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প চালু করেছিলেন।
অন্যদিকে একজন গর্ভবতী মায়ের শারীরিক পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য এবং সুষম খাদ্য বন্টনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে দেশের সকল গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এই প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন। এছাড়া কন্যা সন্তানের জন্মের পর কন্যা সন্তানকে মা হিসেবে উৎসাহিত করার জন্য এই প্রকল্পের সূচনা করার অন্যতম কারণ।
আরোও পড়ুন: Ladli Bahna Yojana (লাডলি বহন যোজনা) কী? কিভাবে আবেদন করবেন? জানুন বিস্তারিত।
আর্থিক অনুদানের পরিমাণ: একজন গর্ভবতী মা যদি প্রথমবারের মতন সন্তান জন্ম দেন তাহলে তাকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। একজন গর্ভবতী মহিলা যদি দ্বিতীয়বারের মতন কন্যা সন্তান জন্ম দেয় তখন তাকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক পরিষেবা দেওয়া হয়।
একজন গর্ভবতী মহিলার এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে তার বয়স ১৮ বছর ৭ মাস বা 19 বছর হতে হবে।
প্রথম সন্তানের সময় যে ৫০০০ টাকা দেওয়া হয় সেটি দুটি কিস্তিতে দেওয়া হয়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গর্ভাবস্থার সময় যখন রেজিস্ট্রেশন করা হয় তখন ৩০০০ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া সন্তান জন্মের পর এবং নবজাতকের টিকাকরনের পর বাকি ২০০০ টাকা প্রদান করা হয়। অন্যদিকে দ্বিতীয় সন্তানের বেলায় একবারই ৬০০০ টাকার প্রদান করা হয় কন্যা সন্তানের জন্য।
তবে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসে, একের পর এক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কর্মসূচি বর্তমানে চলছে। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য প্রথমবারের মতন বাজেট পেশ করেছে ২২ জুন। এই বাজেটে একাধিক নতুন প্রকল্প থেকে শুরু করে অন্যান্য নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত। প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা নিয়ে বড়োসড় আপডেট দেওয়া হয় এই বাজেটে। পশ্চিমবঙ্গের গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনায় অনুদানের পরিমাণ অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনায় পশ্চিমবঙ্গের গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোট ২১ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। এছাড়াও ছয়টি পুষ্টি কিট দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে নতুন বিজেপি সরকারের এই বাজেটে প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা নিয়ে নতুন ঘোষণা গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য এক অভূতপূর্বক ঘোষণা।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা:
১) প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনায় আবেদন করতে হলে বয়স হতে হবে ১৯ বছর।
২) পারিবারিক বার্ষিক আর এর পরিমাণ ৮ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
৩) মহিলাকে অবশ্যই ভারতের স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে।
৪) শিশুর জন্মের ২৭০ দিনের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:
১) মা ও শিশু সুরক্ষা কার্ড
২) আধার কার্ড
৩) রেশন কার্ড
৪) ব্যাংকের পাসবুকে প্রথম পাতার জেরক্স
৫) পাসপোর্ট সাইজ ফটো
আবেদন পদ্ধতি: বর্তমানে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া করা যাচ্ছেনা। আপনি অফলাইনে আবেদন করতে ইচ্ছুক হন তাহলে আপনার নিকটবর্তী কোন প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে গিয়ে ডকুমেন্ট নিয়ে আবেদন পত্র ফিলাপ করে সেখানে জমা দিন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সূচনা করা এই মাতৃ বন্দনা যোজনা এক কথায় অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। সারা দেশের গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলাদের শুভ জন্মগ্রহণের পর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখা পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা এবং চাকরিরতা গর্ভবতী মহিলাদের আয়ের ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবে এই আর্থিক পরিষেবা গর্ভবতী মহিলাদের অনেকটাই উপকৃত করছে। আপনি যদি একজন গর্ভবতী মহিলা হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনায় আবেদন করুন উপরের উল্লেখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে।