২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতন বাংলায় ক্ষমতায় আসেন বিজেপি সরকার। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিজেপি থেকে শুভেন্দু অধিকারী। শপথ গ্রহণের পর পরই নির্বাচনী প্রচারের সময় যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন জনগণকে সে সমস্ত প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। তবে শুধু তাই নয় কিছু নিয়মকানুন বিধি নিষেধ নিয়ে পুনরায় যাচাই করার কাজও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। বিশেষ করে তপশিলি জাতি উপজাতিদের যে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল ২০২১ সালে সেগুলির পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নতুন সরকারের তরফ থেকে। তবে কি কারণে শুধুমাত্র দু হাজার একুশের পরবর্তী জাতিগত শংসাপত্র আবার পুনরায় যাচাই বাছাই করার নির্দেশ দেওয়া হল?
নতুন করে যাচাই করার একটাই কারণ যাদের ২০২১ সালের পর থেকে যে সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে সেগুলোই সঠিক ব্যক্তিগণ পেয়েছে কিনা সেটা দেখার জন্যই পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এসআইআর হওয়ার সময় অনেক ব্যক্তি জাতিগত শংসাপত্র জন্য আবেদন করেছিলেন এবং তারা পেয়েছিলেন। সেই সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র গুলি খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে সেগুলি বৈধভাবে নেওয়া হয়েছে কিনা। যদি সঠিক ব্যক্তি বৈধভাবে এই জাতিগত শংসাপত্র না নিয়ে থাকে তবে সেগুলোকে বাতিল করা হবে বলে বলা হয়েছে।
ইতিমধ্যে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের তরফে। জানা যাচ্ছে, ২০১১ সাল থেকে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লক্ষ কাস্ট সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল। এরমধ্যে তফসিলি জাতি ক্যাটাগরিতে প্রায় ১ কোটি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তফসিলি উপজাতি ক্যাটাগরিতে ২১ লক্ষ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে এবং OBC ক্যাটাগরিতে ৪৮ লক্ষ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের এই শংসাপত্র গুলো দেওয়া হয়েছে সেগুলো বৈধ উপায় দেওয়া হয়েছে কিনা সেটি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে আর তার জন্যই নতুন করে যাচাই করার বিবেচনা করা হবে বলেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।
কোন ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে থাকেন এবং এর সুবিধা গ্রহণ করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল বলে গণ্য করা হবে। শুধু তাই নয় সরকারি যে অফিসার এই সমস্ত শংসাপত্র বিলি করেছেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করার পর সুবীর অধিকারী শপথ গ্রহণের পরপরই একাধিক নতুন প্রকল্প শুরু করার যেমন সূচনা করেছেন ঠিক তেমনি বাংলায় যে কোনো রকম ঘটে যাওয়া ১৫ বছরের দুর্নীতি থেকে মুক্ত করার জন্য কড়া বার্তা জানিয়ে দিয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম হলো এই অবৈধভাবে জাতিগত শংসাপত্র নেওয়া বিশেষ করে এসআইয়ের সময়ে। আর তার জন্যই এইবার ২০২১ সালের পর থেকে দেওয়া সমস্ত জাতিগত শংসাপত্র যাচাই করে পুনরায় বিবেচনা করা হবে কারা বৈধভাবে নিয়েছে এবং কারা অবৈধভাবে নিয়েছে এটি একটি স্বচ্ছ বাংলা গঠন হবে এমনটাই জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।