রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফ থেকে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। তেমনই ফের রেপো রেট নিয়ে নতুন ঘোষণা করা হলো। EMI রেট বাড়ল নাকি কমলো?
সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার মনিটরি পলিসি কমিটি রেপো রেট আগের অবস্থায় রাখলো। আগের নিয়ম ৫.২৫ শতাংশ রাখা হলো। অপরিবর্তিত রাখল। মধ্যবিত্তদের জন্য এর ফলে কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে?
মধ্যবিত্তদের জন্য অনেকটাই সুখবর বলা যায়। রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকার জন্য ঋণের বোঝা বাড়বে না। অর্থাৎ ইএমআই ও ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি পাবে না যার ফলে মধ্যবিত্তদের পক্ষে অনেকটাই খুশির খবর।
প্রসঙ্গত, প্রতি তিন মাস অন্তর রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর এবং মনিটরি পলিসি কমিটির সাথে একটি বৈঠক হয় অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে। এই বৈঠকে ঠিক করা হয় রেপো রেট। বিশেষ করে দেশের বর্তমান আর্থিক অবস্থার কথা বিচার বিবেচনা করি রিজার্ভ ব্যাংকের মনিটরী কমিটির সদস্যরা reporate ঠিক করেন। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় এইবারের বৈঠক অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল এর প্রথম কারণ হলো, নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর এটি ছিল প্রথম বৈঠক। দ্বিতীয়ত বেশ কিছু মাস ধরে ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এক বিশৃঙ্খল অরাজকতা চলছিল, আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর।
আরোও পড়ুন: ইপিএফও গ্রাহকদের জন্য সুখবর! চালু হতে পারে ইপিএফও ৩.০, মোবাইল থেকে ব্যাংক একাউন্টে পিএফ এর টাকা দ্রুত ট্রান্সফারের সুবিধা।
জানা যাচ্ছে, ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি দুই সপ্তাহ কালীন সময় ধরে বন্ধ হওয়ার পরেই ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বৈঠক ডাকেন এবং দুই দিন ধরে চলা এই বৈঠক হওয়ার পর 6 সদস্যের মতামত গ্রহণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর। অন্যদিকে, ইরান ও আমেরিকার দুই সপ্তাহ বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বন্ধ হওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে যেমন উন্নতি হয়েছে তেমনি শেয়ার বাজারেও অনেকটাই উঠেছে। যেটা ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সময় অনেকটাই নেমে গিয়েছিল।
এই নিয়ে চতুর্থবার রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া reporate অপরিবর্তিত রাখলো। এর আগে 2025 সালের আগস্ট অক্টোবর এবং চলতি বছর অর্থাৎ 2026 এর ফেব্রুয়ারি মাসে রেপো রেট অপরিবর্তিত রেখেছিল।
রেপোরেটের বৃদ্ধি বা হ্রাসের সাথে সাধারণ মানুষের কি সম্পর্ক?
রিজার্ভ ব্যাংক যে হারে অন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে সেটাকে রেপো বলা হয়। এই রেপো রেট যদি বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে ঋণের ওপর সুদের পরিমাণ বেড়ে যায়। এরফলে ইএমআই এর উপর প্রভাব পড়ে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয়ের সময় ইএমআই এর ওপর নির্ভর করে। যদি রেপো রেট বৃদ্ধি পায়, তাহলে ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে তার কারণ সুদ বেশি পরিমাণে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ইএমআই এর বোঝাও বাড়বে। অর্থাৎ reporate ঘোষণার সাথে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোর এক অদ্ভুত সরলীকরণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নরের রেপোরেট ঘোষণার পর মধ্যবিত্তরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত হতে পেরেছে।