পঞ্চায়েতে শূন্য পদের সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজার থেকে বেড়ে ১১ হাজারে! জেনে নিন আবেদন পদ্ধতি।

নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে শূন্য পদ পূরণের জন্য একাধিক সরকারি পরীক্ষা হওয়ার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। পঞ্চায়েতের দপ্তরে প্রথমে বলা হয়েছিল সাড়ে ৬ হাজার শূন্য পদে কর্মী নিয়োগ করা হবে। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই শূন্য পদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সাড়ে ছ হাজারের পরিবর্তে ১১ হাজার শূন্য পদে পঞ্চায়েত কর্মী নিয়োগ করা হবে। এই পদে আবেদনের জন্য কি যোগ্যতা দরকার? আবেদন ও নিয়োগ পদ্ধতি সহ অন্যান্য তথ্য জানতে হলে প্রতিবেদনটি মনোযোগ সহকারে পড়ে ফেলুন।

সরকার নতুনভাবে ঘটনা হওয়ার পর বর্তমান পঞ্চায়েত দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান, প্রাক্তন সরকারের সময়ে পঞ্চায়েত দপ্তরের যে ৬০০ পথ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল, তার আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। তবে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১১১৫৪ টি শূন্য পদ পূরণের জন্য আবেদন নেওয়া হবে। গ্রুপ ডি থেকে শুরু করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর পিওন ও একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

মোট শূন্য পদের সংখ্যা: পঞ্চায়েত দপ্তরে মোট শূন্য পদে সংখ্যা রয়েছে ১১১৫৪ টি।

পদের নাম: একাধিক পদে আবেদন করার সুযোগ থাকছে। যেমন – পিওন, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, গ্রুপ ডি, লোয়ার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট, গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী, অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশিয়ার, নির্মাণ সহায়ক ও সহায়ক সেক্রেটারি, স্টেনোগ্রাফার, এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, অ্যাকাউন্টস ক্লার্ক ইত্যাদি পদে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আপনি যে পদের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক সেই পদ বেছে নিয়ে আবেদন করুন।

আরোও পড়ুন: কিষান ক্রেডিট কার্ড নিয়ে RBI নতুন ঘোষণা! সংশোধিত নিয়মে কি সুবিধা? জানুন বিস্তারিত।

বিভাগ অনুযায়ী শূন্য পদের সংখ্যা: গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে শূন্য পদের সংখ্যা ৯৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০ টি, জেলা ও মহকুমা স্তরে ৫৫৮ টি।

আবেদনের যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি পাশ থেকে শুরু করে গ্রাজুয়েট পর্যন্ত যোগ্যতায় বিভিন্ন পদে আবেদনের সুযোগ থাকছে। যেমন গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী, পিয়ন এবং গ্রুপ ডি পদের জন্য অষ্টম শ্রেণী পাস করলে আবেদন করা যাবে।

একাউন্টস ক্লার্ক পদের জন্য মাধ্যমিক উত্তির্ন হতে হবে। এর পাশাপাশি কম্পিউটারের ডিপ্লোমা কোর্স সার্টিফিকেট থাকতে হবে।

ক্লার্ক কাম টাইপিস্ট পদের জন্য আবেদনকারীকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হতে হবে। এর পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি টাইপে মিনিটে ৩০ ও ২০ টি শব্দ তোলার গতি থাকতে হবে সেই সাথে কম্পিউটার সম্বন্ধে জ্ঞান থাকতে হবে।

লোয়ার ডিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশিয়ার পদের জন্য ৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে মাধ্যমিক পাস করতে হবে এবং কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।

ইংরেজি টাইপিস্ট পদের জন্য মিনিটে ৫০ টি শব্দ তোলার মত গতি থাকতে হবে এবং মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হতে হবে ৫০% নম্বর নিয়ে।

গ্রাম পঞ্চায়েত সেক্রেটারি পদের জন্য ও গ্রাম পঞ্চায়েত সহায়ক পদের জন্য আবেদনকারীকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস হতে হবে। এছাড়া কম্পিউটারের বেসিক জ্ঞান থাকতে হবে।

এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের জন্য গ্রাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে ডিপ্লোমা পাস করতে হবে।

অ্যাডিশনাল একাউন্টেন্ট পদের জন্য কমার্স নিয়ে গ্রাজুয়েট হতে হবে আবেদনকারীকে।

বয়স সীমা: আবেদনকারীদের বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষিতের জন্য বয়সের ছাড় দেওয়া হবে।

বেতন স্কেল: বেতন স্কেল পদ অনুযায়ী ভিন্ন হবে। মাসিক বেতন স্কেল ১৭ হাজার থেকে শুরু করে ৯২ হাজার ৭০০ পর্যন্ত রয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া: নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্য সরকার সমস্ত প্রক্রিয়া অনলাইন মাধ্যমে করা হবে বলে ভাবা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত অনলাইন মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। রাজ্যে বিভিন্ন অনলাইন পরীক্ষা কেন্দ্রে কম্পিউটার পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় প্রত্যেক পরীক্ষার্থীদের। এজন্য আপাতত পঞ্চায়েত স্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়া আউটলাইন মাধ্যমিক করা হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া: কবে থেকে আবেদন শুরু করা হবে সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। পঞ্চায়েত দপ্তরে যে সমস্ত প্রার্থীরা আবেদন করতে ইচ্ছুক তারা অবশ্যই পঞ্চায়েত দপ্তরের অফিসার ওয়েবসাইট ফলো করে রাখুন।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের আমলে পঞ্চায়েত স্তরে বিপুল শূন্য পদে নিয়োগের সুযোগ থাকতে চলেছে। তাই যে সমস্ত প্রার্থীরা অনেকদিন ধরে একটি সরকারি চাকরির জন্য সুযোগ খুঁজলে তাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ আসতে চলেছে।

Leave a Comment

Join Group Join Group