২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক পালা বদলের এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসাবে উল্লেখিত। বাংলায় প্রথমবারের মতন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক প্রকল্পের বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিষেবা দেওয়ার কার্যকরী ভূমিকা পালন করে চলেছে। অন্নপূর্ণা যোজনায় দ্বিতীয়বারের মতন প্রায় ১ কোটি ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৭৮ জন আবেদনকারী মহিলাকে পয়লা জুলাই ব্যাংক একাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে ৩০০০ টাকা। বাংলার মহিলাদের অনন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটেছে পয়লা জুলাই। এছাড়াও আগামী অক্টোবর মাসেই শুরু হতে চলেছে ভরসা কর্মসূচি। অক্টোবরই তৈরি করা হবে ভরসা কর্মসূচির পোর্টাল। গ্রাজুয়েট হলেও এবং নন গ্র্যাজুয়েট বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের বিজেপি সরকারের প্রথমবার বাজেট পেশার সময় ভরসা কর্মসূচি সম্পর্কে প্রথমবার স্পষ্ট বার্তা দেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
প্রাক্তন সরকারের সময় বিধানসভা নির্বাচনের কিছু মাস আগে শুরু হয়েছিল যুবসাথী প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই মাস ২১ থেকে ৪০ বেকার যুবকদের মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হতো। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রথমবার বাংলায় ক্ষমতায় আসে বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হবেনা শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন হয়ে চালু থাকবে। সেই অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভান্ডার পরিবর্তিত হয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং যুব সাথী প্রকল্প নাম পরিবর্তিত হয়ে ভরসা প্রকল্প নামে চালু হতে চলেছে।
বাংলায় সরকার নতুন ভাবে গঠন হওয়ার পরেই বিজেপি সরকারের বাংলা জনগণদের জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছিল অন্নপূর্ণা যোজনা সেই অন্নপূর্ণা যোজনা মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের আশা পূর্ণ হয়ে গিয়েছে এইবার বেকার যুবকদের লক্ষ্য ভরসা কর্মসূচির দিকে। কবে নাগাদ এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়ায় শুরু হবে? কিভাবে আবেদন করা হবে? যারা যুব সাথী প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল তাদের নতুন করে আবার আবেদন প্রক্রিয়া করতে হবে কিনা এই সমস্ত প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বেকার চাকরিপ্রার্থীদের মাথায়।
আরোও পড়ুন: পেট্রোলের সাথে ইথানল মেশানোর পরিণতি কী? এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় কী?
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারকালীন ইশতেহারে বিজেপি তরফ থেকে বাংলার জনগণকে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে বাংলার মহিলাদের জন্য ৩০০০ টাকা এবং বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ৩ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মহিলাদের ৩০০০ টাকা দেওয়ার পূরণ হওয়ার পালা শেষ হতেই এইবার শুরুতে চলেছে বাংলার বেকার যুবক যুবতীদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা প্রদান। তবে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে অক্টোবর মাসে।
তবে বাজেট পেশের দিন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রত্যেক বেকার যুবক যুবতীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমান পরিমাণ টাকা যাবে না। যে সমস্ত বেকার যুবক-যুবতীরা গ্রাজুয়েট হয়েছেন এবং বেকার রয়েছেন তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাসিক ৩০০০ টাকা প্রদান করা হবে অন্যদিকে আন্ডারগ্রাজুয়েট অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক বা মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকারদের মাসিক ২০০০ টাকা প্রদান করা হবে।
এই প্রকল্পের আবেদনের জন্য যে সমস্ত যোগ্যতা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে হল আবেদনকারীর বয়স থাকতে হবে ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। আবেদনকারীর পারিবারিক মাসিক আয় এক লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
আবেদনকারী অন্য কোন সামাজিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পেলে এ প্রকল্প আবেদন করতে পারবে না।
আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে।
উপরের এই সমস্ত শর্তগুলো পূরণ করলেই তিনি আবেদন করতে পারবেন ভরসা কর্মসূচি প্রকল্পে। আগামী অক্টোবর থেকে এ প্রকল্পের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় শুরু হবে তবে আবেদন সংক্রান্ত কোন স্পষ্ট বার্তা এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য ভরসা কর্মসূচি একটি অনবদ্য প্রকল্প হিসেবে চালু হতে চলেছে যার মাধ্যমে বেকার যুবক যুবতীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং যতদিন পর্যন্ত তারা নিজের জন্য একটি ভাল চাকরি না পেতে পারে ততদিন পর্যন্ত চাকরি পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচ পড়াশোনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকা তাদের জন্য অনেকটাই ভরসা জোগাবে।