বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি মানুষের মুখে একটাই কথা সেটা হলো অন্নপূর্ণা যোজনা আবেদন প্রক্রিয়া। ২৭ মে নব নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডাদের জন্য অফলাইন ফর্ম প্রকাশ করেছেন। যে সমস্ত উপভোক্তা অফলাইন মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন ২ জুনের মধ্যে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের 3 জুন মাসিক ৩০০০ টাকা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন পোর্টাল চালু হলেও সেটা ঠিকঠাক কার্যকারী না হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার থেকে আবার নতুন করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়। তবে এখন খুব স্মুথলি কাজ করা যাচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। যে সমস্ত উপভোক্তা অনলাইন আবেদন করবেন বলে বসেছিলেন তাদের জন্য এটি অত্যন্ত সুখবর। অনলাইনে আবেদন করলে সেটি ভেরিফিকেশন খুব দ্রুত হয় তার জন্য অনেকেই অনলাইন আবেদন পছন্দ করেন। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য কিভাবে অনলাইন আবেদন করবেন সেটি ধাপে ধাপে দিয়ে দেওয়া হল এই প্রতিবেদনে।
অনলাইন পোর্টালের আবেদন প্রক্রিয়া অফলাইনে তুলনে অনেকটাই সহজ করা হয়েছে। অনলাইন আবেদনপত্রে শুধুমাত্র আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ডের স্ক্যান কপি করতে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে না কোন ব্যাংক ডিটেলস এবং জমির দলিল থেকে শুরু করে অন্যান্য কপি।
যদিও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদনের সময় দেওয়া রয়েছে ৯০ দিন অর্থাৎ তিন মাস। তবে বেশিরভাগ উপভোক্তা অফলাইন মাধ্যমে আবেদন করে ফেলেছেন। যে সমস্ত ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করবেন বলে ভাবছেন তাদের জন্য রইল প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন বিস্তারিতভাবে।
আরোও পড়ুন: স্কুল শিক্ষকরদের জন্য বড়ো হুশিয়ার! টিউশন করতে নিষেধাজ্ঞা, সতর্কতা শিক্ষা দপ্তরের।
আবেদন করার জন্য প্রথমে আপনাকে যেতে হবে অন্নপূর্ণা যোজনার official portal https://socialregistry.wb.gov.in/এইখানে। এখানে প্রবেশ করে প্রথমে দুটি বিভাগ দেখতে পারবেন। একটি বিভাগে সিটিজেন/ফ্যামিলি লগইন বলে অপশন থাকবে এবং অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অফিসার লগইন বলে অপশন থাকবে।
আপনাকে প্রথমটাই চুজ করতে হবে। এরপর আপনি যে জেলায় বসবাস করেন সেই জেলা সিলেক্ট করতে হবে। এরপর আপনার আঁধার যুক্ত মোবাইল নাম্বার বসিয়ে একটি ওটিপি আপনার মোবাইল নাম্বারে যাবে। সেই OTP নির্দিষ্ট জায়গায় ইনপুট করলেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে। তারপর আপনি কোন ক্যাটাগরিতে বিলং করেন সেই ক্যাটাগরি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে প্রত্যেকটি সদস্যের সম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন পত্রটি পূরণ করবেন। যে সমস্ত তথ্য দিতে হবে তার মধ্যে রয়েছে মোবাইল নাম্বার, আধার নাম্বার, ভোটার কার্ড এপিক নাম্বার, ক্ষেত্র ও পাট নম্বর, রেশন কার্ড নাম্বার, জন্ম তারিখ ইত্যাদ। আপনার যদি ভোটার কার্ডের নাম বাদ গিয়ে থাকে তাহলে তার জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন থাকলে সেই উল্লেখিত প্রমাণ আপনাকে দিতে হবে। একটি মোবাইল নাম্বার দিয়ে একজন ব্যক্তি আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইন আবেদন করতে কোনরকম ব্যাংক ডিটেলস দিতে হচ্ছে না। এর মূলত কারণ যেহেতু আবেদনকারীর ব্যাংক একাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার করা হবে তার জন্য আধার কার্ড নাম্বার এর মাধ্যমে টাকা ট্রান্সফার করা হবে। তবে অফলাইন মাধ্যমে থেকে অনলাইন মাধ্যম অনেকটাই সহজ বলে মনে করছেন নাগরিকরা।
অন্য কোন যোজনা প্রথম ক্ষেপের টাকা ২৮ লক্ষের বেশি উপভোক্তা পেয়েছেন। এরপরে আবেদন করার পর ভেরিফিকেশন হয়ে গেলে সাতদিন অন্তর টাকা ট্রান্সফার করা হবে উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। তিন মাস ধরে চলতে আবেদন প্রক্রিয়া তারপর লক্ষীর ভান্ডার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। যারা অনলাইন মাধ্যমে আবেদন করবেন ভাবছেন তারা অবশ্যই উপরে এই নিয়ম অনুসরণ করে ঝটপট আবেদন করে ফেলুন।