5 Day banking latest news: ব্যাংকিং ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন! সাপ্তাহিক কর্ম দিবস পাঁচ দিনের হতে চলেছে, জানুন বিস্তারিত।

ভারতের ব্যাংকিং ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা নিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরে কর্মরত কর্মচারীদের মনে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। অবশেষে ভারতে হতে চলেছে কি ৫ দিনে ব্যাংকিং কর্মদিবস? জেনে নেওয়া যাক সেই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে।

বেশ কিছু দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং তথ্য নিয়ে। তবে সেই জল্পনায় অবশেষে সীলমোহর পড়েছে কি?

একটি নিয়ম পরিবর্তনের আগে অনেক দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা দরকার এবং তারপর সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। ঠিক তেমনভাবেই, ব্যাংকিং ক্ষেত্রে পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালু করার ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে তার কারণ সবটাই নির্ভর করছে সরকারি অনুমোদনের ওপর। তবে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েশন অর্থাৎ IBA তরফ থেকে এই বিষয়টি নিয়ে সম্মতি প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যাংক ইউনিয়নের তরফ থেকেও সম্মতি দেওয়া হয়েছে এই ব্যাপারে। অর্থাৎ ব্যাংকিং সেক্টরে পাঁচ দিনের কর্মদিবস চাইছেন প্রত্যেকেই। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত না অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পাওয়া যাচ্ছে ততক্ষণ এই নতুন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পথে বাধা থাকছে।

বর্তমানে ভারতের ব্যাংকগুলিতে ছয় দিনের কর্মদিবস পালন করা হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে রয়েছে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার। এই দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ছুটি থাকে। তবে ব্যাংকিং সেক্টরে প্রত্যেক শনিবার ছুটির অপেক্ষায় দিন গুনছে ব্যাংক কর্মচারীরা।

ব্যাংকিং সেক্টরে যে সমস্ত কর্মচারীরা কাজ করেন তাদের ছয় দিনের কাজের চাপ বেশ অনেকটাই কঠিন মনে হচ্ছে। বিশেষ করে দৈনিক চাপ, ডিজিটাল লেনদেন এছাড়া আরও কিছু কাজের চাপ ব্যাংকিং সেক্টরে কর্মরত কর্মচারীদের ওপর অনেকটাই চাপ সৃষ্টি করছে। যার ফলে তারা পাঁচ দিনের কর্ম দিবসের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে যদিও পাঁচদিনের কর্ম দিবস করার জন্য জল্পনা উঠেছিল তবে এখনো পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি অর্থ মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে সম্মতি না পাওয়ার জন্য।

আরোও পড়ুন: ১০০০ শূন্যপদে অধ্যাপক নিয়োগ! বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে করা হলো ৪৫, জানুন বিস্তারিত।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম পে বেতন কার্যকর হয়েছে আর তারপরেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাংকিং সেক্টরে ৫ কর্ম দিবস চালু হওয়ার কিছুটা আশা তারা দেখতে পাচ্ছেন।

কিন্তু কেন ব্যাংকিং কর্মীরা ছয় দিন কাজ করতে চাইছেন না? পাঁচ কর্ম দিবস হলে কি কি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে?

ব্যাংকিং কর্মীরা জানিয়েছেন, পাঁচ দিনের কর্ম দিবস হলে কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে একটা সমন্বয় আসে। প্রতিদিনের দৈনন্দিন অফিশিয়াল কাজকর্ম একটা একঘেয়েমী জায়গা নিয়ে আসে। সেক্ষেত্রে যদি দুইদিন পরিবার বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো যায় বা কাছাকাছি কোন ভ্রমণ স্থান থেকে ঘুরে আসা যায় তাহলে মাইন্ড ফ্রেশ হয়। এরপরে আবার অফিশিয়াল কাজের মধ্যে মনোনিবেশ করলে কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও ফোকাস দুটোই বেড়ে যায়। এর ফলে কাজের প্রতি মনোযোগ এবং কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যার ফলে উৎপাদনশীলতা অনেকটা বেড়ে যায়। এছাড়া প্রায়ই দেখা যায় ব্যাংকিং সেক্টরের যে আধিকারিকরা থাকে তাদের অনেক সময় কঠোর হতে বা গ্রাহকদের সামান্য কথায় বিরক্তি প্রকাশ করতে। এর প্রধান কারণ হলো প্রত্যেকদিন টানা কাজ করতে করতে কাজের প্রতি একটা অনিয়া এসে যাওয়া। যদি সপ্তাহে পাস দিন করব দিবস হয় তাহলে মন পুরোপুরি ফুরফুরে থাকবে এবং কাজের প্রতি একটা আগ্রহ প্রকাশ পাবে সে ক্ষেত্রে তাদের মানসিক ধৈর্য অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। এই সবকিছুর জন্যই ব্যাংকিং ক্ষেত্রে একটা সুশৃংখল ধারা বজায় থাকে।

তবে এর কিছু অসুবিধা আসতে পারে তার কারণ যতক্ষণ না পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া যাচ্ছে এই পরিষেবা পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে গ্রামীন এলাকায় যে ব্যাংকগুলো রয়েছে, সেখানকার প্রান্তিক গ্রাহকদের সপ্তাহের শেষে যদি কোন ব্যাংকিং সমস্যা হয় তাহলে তারা ব্যাংকিং শাখায় গিয়ে সে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। সপ্তাহ শুরু পর্যন্ত তাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে এর ফলে গ্রাহকরা অনেকটাই সমস্যার মধ্যে পড়বে। অন্যদিকে পাঁচ কর্ম দিবস করা হলে ব্যাংকিং কর্মীদের ডিউটি টাইম ও অন্য সমস্ত কিছু সিডিউল নতুন করে সাজাতে হবে সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা তৈরি হবে।

অর্থাৎ কোন নতুন পরিষেবা বা প্রক্রিয়া পরিবর্তন করার পেছনে যেমন কিছু সুবিধা রয়েছে আবার কিছু অসুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং সেক্টরের কর্মীরা অনেকটাই আশা করে রয়েছেন কাজকর্ম দিবসের জন্য তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন মিলছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই আশা বাস্তবতা পাবে না।

Leave a Comment

Join Group Join Group