২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচন যেন ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে রয়েছে তার কারণ প্রথমবারের মতন বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ২০২৬-এ নির্বাচনী প্রচারে এসে বিজেপির দলের থেকে বাংলার জনগণকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিমূলক প্রকল্পের কথা বলা হয়েছিল এবং দেখা যাচ্ছে বিজেপির প্রথমবারের মতন সরকার গঠনের পর সেই সমস্ত প্রতিশ্রুতি গুলি পর্যায়ক্রমে পূরণের জন্য প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন আগের সরকারের সূচনা করা কোন জনদরদী প্রকল্প বন্ধ হচ্ছে না শুধুমাত্র সেগুলির নাম পরিবর্তিত হয়ে যাবে। পূর্ববর্তী সরকারের সূচনা করা সব থেকে জনপ্রিয় প্রকল্প যেটি মহিলাদের জন্য করা হয়েছিল যার নাম লক্ষীর ভান্ডার। সেই প্রকল্পের অনুদান ছিল ১৫০০ টাকা। সেই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পই পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে এবং এই প্রকল্পের অনুদান ডবল দেওয়া হবে অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করে প্রত্যেক মাসে দেওয়া হবে বাংলার মহিলাদের। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে সমস্ত উপভোগতা লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান পেতেন তারাই কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনুদান পাওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন করবেন নাকি আগের অ্যাকাউন্টেই টাকা ঢুকবে। যদিও এই বিষয়ে ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, লক্ষীর ভান্ডার উপভোক্তারা আগের একাউন্টেই জুন মাস থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনুদান পেতে থাকবেন তবে তার জন্য থাকতে হবে অ্যাকাউন্টের সাথে DBT লিংক।
এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কিভাবে এই DBT লিংক করা যাবে? কোথায় গিয়ে DBT লিংক করতে হবে?
আপনার কোনো চিন্তা নেই, বাড়িতে বসেই আপনার হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলটির সাহায্যেই আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যে করে ফেলতে পারবেন DBT লিংক। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই পদ্ধতি।
ডিবিটি লিংক না থাকলে কি হবে?
আগের অ্যাকাউন্টের সাথে ডিবিটি লিংক না থাকলে আপনার মিলবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা এমনটাই বলা হয়েছে নতুন সরকারের তরফে।
সবার আগে জেনে নেওয়া যাক, DBT কথার অর্থ কি ?
DBT ফুল ফর্ম হলো Direct Benefit Transfer। এর অর্থ সরকারের তরফে সূচনা করা কোনো প্রকল্পের অর্থ সরাসরি দেওয়া হয় উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে। এরফলে দুর্নীতি অনেকটাই কম হয়। কোনো মধ্যস্থতাকারী না থাকার জন্য সত্যিকারের উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে ঢোকে।
আপনার ব্যাংক একাউন্টের সাথে আধার নম্বর এবং মোবাইল নম্বর লিংক করা রয়েছে কিনা সেটি আগে জানা দরকার। তবে ই আপনার ব্যাংক একাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা সরাসরি ঢুকে যাবে। আপনার যদি DBT লিংক একাউন্ট থাকে তাহলে স্ট্যাটাসে DBT Enabled লেখাটি উঠবে। অর্থাৎ তাহলে বুঝবেন আপনার ব্যাংক একাউন্টের ডিবিটি লিঙ্ক করা রয়েছে, তাহলে আর কোন চিন্তার কারণ নেই, সরাসরি জুন মাসে আপনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যাবেন।
বাড়িতে বসে কিভাবে জানবেন আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT লিংক করা আছে কিনা?
আপনার হাতে থাকা অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন বা আপনার ল্যাপটপের মাধ্যমেই আপনি কয়েক মিনিটের মধ্যে ডিবিটি স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
এরজন্য আপনাকে নিম্নলিখিত পদ্ধতি বলে অনুসরণ করতে হবে।
১) প্রথমে আপনাকে UIDAI অফিসিয়াল পোর্টালে যেতে হবে।
২) তারপর আপনার আধার নম্বর ও OTP ইনপুট করে লগইন করুন।
৩) এরপর “Bank Seeding Status” অপশনে ক্লিক করুন। এই অপশন থেকেই আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক আপ হয়েছে কিনা, NPCI Mapping করা রয়েছে কিনা, DBT লিংক করা হয়েছে কিনা…. এইসব তথ্য গুলো।
যদি আপনার ব্যাংক একাউন্ট ডিবিটি লিংক না করা থাকে তাহলে কি করবেন?
তাহলে আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে ডিবিটি লিংক সক্রিয় করতে হবে। তার জন্য কিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে সেগুলো নিম্নে দিয়ে দেওয়া হলো।
১) আধার কার্ড
২) ব্যাঙ্ক পাসবুক
৩) মোবাইল নম্বর
৪) প্যান কার্ড
৫) পাসপোর্ট সাইজ ছবি
প্রথমে আপনাকে DBT Activation ফর্ম পূরণ করতে হবে। আর সাথে ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। এরপর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আপনার তথ্য যাচাই করে নিয়ে আপনার ব্যাংক একাউন্টে সাথে DBT লিংক সক্রিয় করে দেবেন।
এছাড়া আপনি ব্যাংকে না দিও অনলাইন মাধ্যমে এই কাজটি করতে পারেন তার জন্য আপনাকে আপনার যে ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে সেই ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ বা নেট ব্যাংকিং লগইন করুন। এরপর আধার লিঙ্কিং অপশনে যান। তারপর 12 সংখ্যার আধার নম্বর ইনপুট করুন। ওটিপি ভেরিফিকেশন করুন। তারপর সাবমিট করলেই আপনার ব্যাংক একাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি লিংক সক্রিয় হয়ে যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা অনুযায়ী জুন মাস থেকেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুরূপ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অনুদান পৌঁছে যাবে উপভোক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে, তবে তার জন্য ডিবিটি লিংক করা যেহেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই সবাই জুন মাসের আগে এই কাজটি করে নিন, না হলে আপনার টাকা আপনার ব্যাংক একাউন্টে কিন্তু আসবেনা। সরকারের তরফ থেকে টাকা উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সরাসরি পাঠানোর জন্যই এই নিয়মটি কার্যকরী করা হয়েছে। এর ফলে ভুয়ো আবেদনের সংখ্যা যাচাই করা যাবে এবং প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, সঠিক উপভোক্তারাই প্রকল্পের অনুদান পাবেন, যার ফলে রাজ্যের মহিলারা অনেকটাই উপকৃত হবেন।
Read more: ST ও SC সার্টিফিকেট নিয়ে কড়া বার্তা সরকারের, পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ! জানুন বিস্তারিত।