১০০০ শূন্যপদে অধ্যাপক নিয়োগ! বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে করা হলো ৪৫, জানুন বিস্তারিত।

পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের উদ্যোগে চাকরির সুবর্ণ সুযোগ। যে সমস্ত প্রার্থীরা হয়তো ভেবেই নিয়েছিলেন চাকরিতে আর বসার সুযোগ পাওয়া সম্ভব নয় তাদের জন্য ভাগ্য খুলতে চলেছে। তাই আর দেরি না করে প্রিপারেশন নিতে শুরু করুন, তার আগে আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আবেদন পদ্ধতি জেনে নিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলুন। আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এবং আবেদনের শেষ সময়সীমা ও নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য আলোচনা করা হলো আজকের এই প্রতিবেদনে।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৪ মে ঘোষণা করেন, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি চাকরি পরীক্ষায় আবেদনের বয়সসীমা আগের চেয়ে ৫ বছর বাড়ানো হলো। অর্থাৎ যে পরীক্ষায় আবেদনের জন্য বয়সের উর্ধ্বসীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল সেই পরীক্ষায় আবেদনের জন্য নির্ধারিত বয়স থেকে আরো পাঁচ বছর করে বাড়িয়ে দেওয়া হলো। সকল চাকরির পরীক্ষায় এই পাঁচ বছর বর্ধিত করণ কার্যকরী করা হবে ১১ই মে থেকে তেমনটাই জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ প্রথমে যে বিজ্ঞপ্তি বেরিয়েছিল সেখানে আবেদনের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমার ৪০ বছর করা ছিল, সেটি নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ৪৫ বছর করে দেওয়া হয়েছে। আপনিও যদি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের স্বপ্ন দেখে ছিলেন কোনদিন তাহলে সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আবেদন করে ফেলুন।

নিয়োগ সংস্থা: পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যে কলেজ গুলো রয়েছে সেখানেই নিয়োগ দেওয়া হবে।

Read more: মিসলেনিয়াস সার্ভিসে বয়স বেড়ে হলো ৪৪, আবেদন সম্পর্কিত তথ্য জানুন।

পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে নিয়োগ করা হবে।

শূন্য পদের সংখ্যা: পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে যে কলেজ গুলো রয়েছে সেগুলোতে মোট শূন্য পদ রয়েছে ১০০০ টি।

১০০০ শূন্যপদে অধ্যাপক নিয়োগ!

কোন কোন বিষয়ের জন্য আবেদন করা যাবে?
মোট ৫১ টি বিষয়ে জন্য এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নেওয়া হবে। বিষয়গুলি হলো : সাইকোলজি, সংস্কৃত ফিজিক্স মিউজিক এ ছাড়া আরো অন্যান্য বিষয়ে। পশ্চিমবঙ্গের কলেজ সার্ভিস কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের থেকে বিজ্ঞপ্তিতে আরো অনেক বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। আপনি যে বিষয়ের জন্য আবেদন করবেন সেটি দেখে নিয়ে আবেদন করুন।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাধারণ ডিগ্রি কলেজে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের বেলায় দ্বিতীয় শ্রেণীর তিন বছর পর ডিগ্রি কোর্স পাস করার পর পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি থাকতে হবে, সেই সাথে ৫৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাস করতে হবে। তবে তপশিলি প্রতিবন্ধী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৫০ শতাংশ নম্বর দিয়ে পাশ করলে হবে। মাস্টার ডিগ্রি অর্জনের পর যে সমস্ত প্রার্থীরা phd করেছেন তাদের জন্য ৫০% নম্বরেও আবেদন করা যাবে। অনার্স গ্রাজুয়েট হলে অগ্রাধিকার পাবেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের সেট, ইউজিসি নেওয়া জুনিয়র রিসার্চ ফেলো বা লেকচারশিপ পরীক্ষায় কোয়ালিফাইড থাকতে হবে। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য। তাদের জন্য নেট বা সেট পরীক্ষায় কোয়ালিফাইড না করলেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বয়স সীমা: আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ৪৫ বছরের মধ্যে। সংরক্ষণের নিয়ম অনুযায়ী তপশিলিরা ৫ বছর, ওবিসি ৩ বছর, প্রতিবন্ধীরা ১০ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় পাবেন।

বেসিক স্যালারি: মূল বেতন রয়েছে ৫৭৭০০ টাকা।

নিয়োগ প্রক্রিয়া: কোনরকম লিখিত পরীক্ষা হবে না। শুধুমাত্র ইন্টারভিউ হবে। ইন্টারভিউ এর ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশন একটি মেধা তালিকা তৈরি করবেন। সেই মেধা তালিকায় ১০০০ শূন্যপদ পূরণ করা হবে। তপশিলি, প্রতিবন্ধী, ওবিসি প্রত্যেকের জন্য সংরক্ষিত শূন্য পদ অনুযায়ী নিয়োগ করা হবে।

আবেদন করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.wbcsconline.in এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর একটি বৈধ ইমেইল আইডি ও মোবাইল নম্বর সহযোগে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। তারপর লগইন করে আবেদন পত্র নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে এবং তার সাথে ডকুমেন্ট, ফটো ও সিগনেচার জেপিইজি ফরমেটে স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। তারপর সমস্ত মিলিয়ে নিয়ে আবেদনমূল্য জমা দিয়ে সিস্টেম জেনারেটেড অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম পিন্ট আউট করে নেবেন।

আবেদন মূল্য: জেনারেল ক্যাটাগরিদের জন্য আবেদন মূল্য রয়েছে ২৫০০ টাকা এবং তপশিলি, ওবিসি, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১২৫০ টাকা। অনলাইনের মাধ্যমে ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড বা নেট ব্যাঙ্কিং এর মাধ্যমে আবেদনমূল্য জমা করা যাবে।

আবেদনের সময়সীমা: আবেদন সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে ১৮ই জুন পর্যন্ত।

যে সমস্ত প্রার্থীরা পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর নিয়োগের জন্য পরীক্ষায় বসতে ইচ্ছুক, তারা অবশ্যই নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে আবেদন করে ফেলুন।

Leave a Comment

Join Group Join Group